ভিসা পেতে দেরি হওয়ায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন হলদিয়ার বাসিন্দা রুবি পাল। নির্ধারিত সময়ে ভিসা পেয়ে গেলে যে এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে,
সেখানেই তাঁদের থাকার কথা ছিল। হলদিয়া টাউনশিপে ফিরে এসে সেই আতঙ্কের…
ভিসা পেতে দেরি হওয়ায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন হলদিয়ার বাসিন্দা রুবি পাল। নির্ধারিত সময়ে ভিসা পেয়ে গেলে যে এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে,
সেখানেই তাঁদের থাকার কথা ছিল। হলদিয়া টাউনশিপে ফিরে এসে সেই আতঙ্কের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন তিনি।২১ আগস্ট হলদিয়া থেকে কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন রুবি পাল। ২৪ আগস্ট ভিসা পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২৬ আগস্ট ভিসা হাতে পান। এরপর বাসে করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছনোর আগেই তাঁদের বাস থেমে যায়।রুবি পাল জানান, বাসের ভিতর থেকেই দূরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখতে পান তাঁরা। আচমকাই বহু মানুষকে ছুটে আসতে দেখা যায়। এলাকার ভাষা পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও তাঁদের চিৎকার-চেঁচামেচি দেখে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেন। অনেকেই দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য ইশারা করছিলেন। এরপর বাসটিকে নিরাপদ জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। কিছুক্ষণ পরেই তাঁরা জানতে পারেন, ওই এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রবি পাল বলেন, “অনেক বছর ধরে কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। গত বছরও চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু হয়ে ওঠেনি। এবছর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যেতেই হবে। শুনেছিলাম, ৭০ বছর বয়স হয়ে গেলে আর সেখানে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া যায় না। আমার ৭০ বছর হতে আর মাত্র তিন বছর বাকি। তাই এবছর যেতেই চেয়েছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “সময়মতো ভিসা পেয়ে গেলে যে এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানেই আমাদের থাকার কথা ছিল। ভিসা দেরিতে পাওয়ায় দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই আমরা সরে যেতে পেরেছি। ঘটনাগুলো মনে পড়লে এখনও শিউরে উঠছি। মনে হচ্ছে ভগবানই চেয়েছেন বলে প্রাণে বেঁচে বাড়ি ফিরেছি।”অনেক চেষ্টা করেও এবছর তাঁর কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের স্বপ্ন পূরণ হল না। আগামী দিনে আবার সেখানে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে এই যাত্রায় প্রাণে বেঁচে বাড়ি ফিরতে পেরে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ রুবি পাল।


No comments